বডি ডিসমরফিক ডিসওর্ডার
মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে আমরা কতটুকু সচেতন?একমাত্র মন খারাপই কি মানসিক অসুস্থতা বুঝায়? মাদকদ্রব্য সেবন,একাকীত্ব,পারসোনাল ডিসওর্ডার,ডিপ্রেশন,সিজোফ্রেনিয়া সহ আরও অনেক মেনটাল হেলথ ডিসওর্ডার রয়েছে। আরেকটি বড় মেন্টাল হেলথ ডিসওর্ডার হলো বডি ডিসমরফিক ডিসওর্ডার।
বডি ডিসমরফিক ডিসওর্ডার কী?
এটি এমন এক অসুস্থতাকে বুঝায় একজন মানুষ তার দেহের ত্রুটি ধরে অর্থাৎ দেহের ওজন,গড়ন,রং ইত্যাদি নিয়ে খুশি থাকে না।এটাও একটা মানসিক রোগ। আমাদের প্রত্যেকেরই শারীরিক গঠন আলাদা। কিন্তু,অনেকেই আছেন যারা তাদের দৈহিক গঠন নিয়ে চিন্তিত। তাদের ধারণা তারা অন্যদের মতো এত গ্রহণযোগ্য না।এই ত্রুটি তাদের ব্যক্তিজীবনে প্রভাব ফেলে বা দৈনন্দিন কাজ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। ফরাসি মনোবিদ পিয়েরে জ্যানেভ এই ব্যাধিকে ”Obsessions of shame of the body’ নামে আখ্যায়িত করেছেন।
বডি ডিসমরফিক ডিসওর্ডার এর একটি বড় উদাহরণ হলেন, পপ তারকা মাইকেল জ্যাকসন। উনি এই রোগে আক্রান্ত ছিলেন। তিনি তার চেহারা, গড়ন নিয়ে চিন্তিত ছিলেন এবং পরবর্তীতে কসমেটিক সার্জারী করে নিজের চেহারা পরিবর্তন করে ফেলেন।
আক্রান্ত হওয়ার কারণ
বডি ডিসমরফিক এ আক্রান্ত হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে –
- শারীরিক গঠন নিয়ে বন্ধু, পরিবার বা সমাজে নেতিবাচক মন্তব্য শোনালে। কেও কালো হলে, অনেকে তাকে নিয়ে হাসাহাসি করে আবার কেও মোটা হলে অনেকে তাকে ‘মোটু’ বলে ডাকে। অর্থাৎ, বুলিংয়ের শিকার হলে।
- অনেক সময় লক্ষ করা যায় যে পরিবার বা সমাজের মানুষ সুন্দর একজন ব্যক্তির সাথে তুলনা করল। এতে করেও অনেকে মানসিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পরে। তার তখন মনে হয় সেই ব্যক্তিটি সুন্দর কিন্তু সে সুন্দর না।
- অনেকে স্বভাবতই খুঁতখুতে স্বভাবের হয়।সে নিজেই তার শরীরের চোখ,কান,নাক,গায়ের রং দেখবে আর চিন্তা করবে।বার বার আয়নায় নিজেকে দেখবে।নিজেকে ছোট মনে করবে।
- মস্তিষ্কে অস্বাভাবিকতা বা হরমোন কোনো কারণে বেড়ে বা কমে গেলে বা নিউরোট্রান্সমিটার জনিত সমস্যা হলে।
- বংশগতীয় প্রভাব থাকলেও অনেক সময় এই রোগে আক্রান্ত হয়।
আরও পড়ুন: How to Love and Take Care of Yourself
উপসর্গ:
- চিন্তাভাবনায় অস্বাভাবিকতা থাকে।
- রাগ এবং হতাশা বাড়ে।
- একাকীত্ব বেড়ে যায় ফলে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে।
- নেতিবাচক চিন্তা মনে হয়।
- বার বার আয়নায় দেখে নিজের খুঁত ধরে।
- সবার থেকে আলাদা থাকে বা দূরত্ব সৃষ্টি করে।
- সার্জারী করে চেহারা পরিবর্তন করতে চায় এমনকি সাজগোজ করে নিজেকে সুন্দর করতে চায়। অনেক সময় কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখে।
প্রতিকার-
কেউ এই অসুখে আক্রান্ত হলে প্রধান কাজ হলো তাকে তার শরীর নিয়ে কটাক্ষ না করা। কারণ এতে করে তার আত্মবিশ্বাস কমে যাবে। আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়বে। তাই রোগীকে সবসময় পজিটিভ চিন্তা ভাবনা করার জন্য চেষ্টা করাতে হবে। এমন পরিবারের সাথে থাকার ব্যবস্থা করতে হবে যারা সবসময় তার প্রশংসা করবে। তাকে পরিবারের সাথে মিলে সুস্থ একটি পরিবেশ দিতে হবে এবং ডাক্তারের সাথে কথা বলে রোগীকে ওষুধ দেওয়া এবং রোগীকে কাউন্সিলিং করতে হবে। এতে করে রোগীর উদ্বেগ কমবে এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে।
পরিশেষে, মানসিক অসুস্থ হলেই তাকে রোগী না বানিয়ে তার পরিপূর্ণ চিকিৎসা করা জরুরি। তার সমস্যাগুলো খুঁজে বের করা এবং সমাধানের চেষ্টা করা উচিত। কাউন্সিলিং করা, নিয়মিত ব্যায়াম করা এবং সুস্থ থাকার চেষ্টা করতে হবে। তাহলেই একজন মানুষ মানসিকভাবে পরিপূর্ণ সুস্থ থাকতে পারবে।